যাচাই বাছাই করে অটোরিকশার প্লেট নবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিশৃঙ্খল চেষ্টা চক্রের
শহর প্রতিনিধি
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র শত শত প্লেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ভাড়া, রুট ও পরিচালনা ব্যবস্থায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। সম্প্রতি সেই সিন্ডিকেটের ওপর প্রশাসনের নজরদারি শুরু হতেই প্রকাশ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
গত রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) প্রশাসকের সভাকক্ষে অটোরিকশা প্লেট নবায়ন নিয়ে বৈঠকের সময় এ উত্তেজনা তৈরি হয়।
জানা জানায়, প্লেট নবায়নের নামে একাধিক ব্যক্তি শতাধিক প্লেট নিজেদের নামে রাখার চেষ্টা করলে প্রশাসন আপত্তি তোলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সিটি কর্পোরেশন চলে, আবার আমাদেরই বের করে দিতে চায়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সিন্ডিকেটের নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমানকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, অটোরিকশা খাত দীর্ঘদিন ধরেই একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে, যারা সাধারণ চালক ও যাত্রী উভয়কেই জিম্মি করে রেখেছে।
নাসিক প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, একজনের নামে যদি ২০০-৩০০টি প্লেট থাকে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো চক্রের কাছে সিটি কর্পোরেশন মাথানত করবে না।
তিনি আরও জানান, নগরকে একটি পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনতে গেলে এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করা জরুরি। আমরা চাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ চলতে দেওয়া হবে না।
শহরের এই অটোরিকশা প্লেট সিন্ডিকেট শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক সমস্যাও তৈরি করেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রুট নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন চালকদের প্রবেশে বাধাসহ সব মিলিয়ে পুরো ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছতার মধ্যে চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসনের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নগরবাসী স্বস্তি পাবে এবং শহরে শৃঙ্খলা ফিরবে।
মতামত দিন