প্রধান খবর

বিদ্রোহীদের ফাঁদে পড়ে নেতাদের কলঙ্কের দাগ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখনো নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। এসন বিদ্রোহী প্রার্থীদের একে একে বহিষ্কার করলেও তারা থেমে নেই। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে দফায় দুজনের অধিক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন। এ নিয়ে রীতিমত নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফাঁদে পড়ে কলঙ্কের দাগ গায়ে মাখছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। যেকারণে শাস্তিস্বরুপ তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। 
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জর ৪টি আসনে বিএনপির ও একটি আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তবে পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপি ও জাটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক বা একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মো. দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিম এবং নারায়ণগঞ্জ -৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন রয়েছে। এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের একে একে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ও সমর্থন দেওয়া নেতাকর্মীদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। 
সম্প্রতি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাÐে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির ২০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জি এম সাদরিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, থানা বিএনপির সদস্য শামিম আহম্মেদ ঢালি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আলী আইয়ুব, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ভ‚ইয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুজ্জামান মন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল প্রধান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামান মির্জা, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন ও জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির হোসেন এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক।
এদের মধ্যে বহিষ্কৃত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সভাপতি জি এম সাদরিল হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া সম্প্রতি অস্ত্র মজুদ করা নিয়ে আলোচনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বজলুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম সহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছেন। 
এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের চার জনের বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দুলু এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আপেল। এদের মধ্যে শহিদুর রহমান স্বপন প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় কাজ করেছেন। 
রোববার (১ ফেব্রæয়ারি) ফতুল্লা থানা বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সাংবাদিক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বহিষ্কৃতরা হলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ফতুলা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিপ্লব, মো. মুসলিম আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার খন্দকার, থানা বিএনপির সদস্য জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, আলম ও কুতুবপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আঃ রাজ্জাক।
বহিষ্কৃত এসব নেতাদের বিরুদ্ধে দলের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলমের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে থানা বিএনপির সদস্য জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না প্রথম থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমেছেন। অন্যদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা সহ তার অনুসারীরা বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। 
সংশ্লিষ্টদের মতে, দলের জন্য বছরের পর বছর ধরে কাজ করে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পদ পদবীতে আসীন হন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফাঁদে পড়ে সেসব অর্জন খোয়া যায়। সেই সাথে দলের বøাক লিস্টে পড়ে যান এসব বহিষ্কৃত নেতারা। এতে করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি এসব নেতাদের গায়েও কলঙ্কের দাগ লাগে। ফলে তাদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যত এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে যায়।
 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com