রাজনীতি

ওসমান পরিবারের ছায়ামূর্তি এখন কাসেমীর ঘাড়ে

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার দলীয় লোকজনের সাথে সমঝোতা করে বেশ সুবিধাজনক স্থানে ছিলেন হেফাজত নেতা ও জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। ফলে এক সময় তাকে আপন ভেবে ছোট ভাই সম্মোধন করেছিলেন শামীম ওসমান। এতে তৎকালীন সময়ে বড় ভাই শামীম ওসমানের আশির্বাদ পেয়ে বেশ দাপুটে ভূমিকায় ছিলেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। এমনকি ওসমান পরিবারের আরেক সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে দেখা গেছে। এছাড়া শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠানে তাকে প্রায় সময় দেখা যেত। তবে গত ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের পর ভোল পাল্টে ওসমান বিরোধীতা করেন তিনি। এখন সেই ফেরদাউসুর রহমান বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী নির্বাচনী প্রচারণায় সবার আগে তাকে দেখা যাচ্ছে। এই প্রার্থীর নির্বাচনী সব অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যাচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ছোট ভাই খ্যাত ও ওসমান পরিবারের কাধে ভর করে চলা সেই ফেরদাউস এখন কাসেমীর কাঁধে ভর করে চলছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দল থেকে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এ সময় তার পাশে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, যাকে সবাই সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছোট ভাই হিসেবে চিনে। 
জানা যায়, বিগত প্রায় ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সবসময় ওসমান পরিবারের সদস্যদের ছায়ায় থাকতেন। শামীম ওসমান তাকে ছোট ভাই হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সেই সাথে শামীম ওসমানের অনুসারীরাও তাকে সুনজরে রাখতেন। নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা বিপদে থাকলেও মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান থাকতেন নিরাপদে।
২০২১ সালের ২০ মার্চ আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান। এসময় তিনি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে তার ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো।
এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমানের লাঙ্গল প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। এ নিয়ে তৎকালীন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। তৎকালীন সময়ে এসব ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তিনি বেশ দাপুটে অবস্থানে ছিলেন। এছাড়া শামীম ওসমানের বাড়ি ও রাইফেল ক্লাবে তার নিয়তিম আনাগোনা ছিল বলে স্থানীয় নির্দিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে শামীম ওসমান সহ তার অনুসারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আর এই পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান শামীম ওসমানের সাথে সকল সম্পর্ক অস্বীকার করে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ¯েøাগান দিয়ে নিজের রঙ বদলানোর চেষ্টা করেন। নিজেকে ওসমান বিরোধী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। 
সম্প্রতি বিএনপি এক অনুষ্ঠানে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ার সরিয়ে দেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সেসময় তাকে শামীম ওসমানের ছোট ভাই ও আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার নামে বরাদ্দকৃত ওই চেয়ার সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।
নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, গত ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার অবর্তমানে জমিয়তে উলামানে ইসলামের নেতা ও বিএনপি থেকে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর কাঁধে ভর করে চলছেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। খেলাফতে মজলিসের এক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় ফেরদাউসের উপর অভিযোগ উঠে। সেই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ইসলামিক রাজনীতিক দুই দলের দুই নেতার লবিংয়ের কারণে আর বিচার পায়নি খেলাফতে মজলিসের সেই ভুক্তভোগী নেতা

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com