রাজনীতি

গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন বিএনপি নেতা রিয়াদ, ফোনালাপ ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এক ব্যবসায়ীর গার্মেন্ট কারখানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমনকি হুমকি দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে শাসিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এই বিএনপি নেতার একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। 

জানা গেছে, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ফোনে আজাদ প্লাজা গার্মেন্ট অ্যান্ড ডাইং কারখানার মালিক আজাদ হোসেনকে হুমকি দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরে গত ৫ আগস্ট থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ও ভাঙচুর করা হয়। ওই সময়ে ফোনে এ হুমকি দিয়েছেন বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরী। তবে ভয়ে এই গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক এ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করেনি। 

ভাইরাল হওয়া ফোনালাপের অভিও রেকর্ডে শোনা যায়, ওই গার্মেন্ট ও ডাইং কারখানার মালিককে উদ্দেশ্য করে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ফোনে বলেন, ‘আপনি ফ্যাক্টরি খুলছেন কেন। ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেব। আপনি তো শেখ হাসিনার কি হন? গুন্ডামি করলেন কয়দিন ধরে। আমি ওই সময় শুধু রানার জন্য আগুন ধরাতে দেই নাই। ফতুল্লায় কত ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরছে আপনারা তো দেখছেন। আপনি ফ্যাক্টরি খুললেন কেন? এর প্রতিউত্তরে আজাদ প্লাজার গার্মেন্টস অ্যান্ড ডাইং কারখানার মালিক আজাদ হোসেন বলেন, হে বাবা, কি করতে হবে বইলো। তুমি যেভাবে বলবে সেভাবে করবো। আমি কি তোমার কথার বাইরে গেছি বলো। 

রিয়াদ চৌধুরী আরও বলেন, আপনি টাকা তো কবরে নিয়ে যাবেন। আপনেরে টাকা সহ কবরে দিয়ে দেব। আপনি এখন আসেন। আপনি এখন আসবেন নাকি ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরিয়ে দেব। এর প্রতি উত্তরে ফ্যাক্টরি মালিক আজাদ হোসেন বলেন, আচ্ছা আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবো। 

রিয়াদ হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাকে বলেন কখন সাক্ষাৎ করবেন? আপনি দেখা করবেন কি করবেন না বলেন? কখন কবে দেখা করবেন সেটা বলেন। কালকে রাতে যদি আগুন দিয়ে ফ্যাক্টরী পুড়ে ফেলে তখন বসে থাকতে পারতেন। দুই-চারটা বাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে আগে আগুন ধরায় নাই। ধরছে কিনা বলেন? শহীদ সাহেবের মত ও সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরীতে আগুন ধরছে। আর আপনি তো শামীম ওসমানের ছোট ভাই। আপনি আওয়ামী লীগার মানে আপনি তো বড় আওয়ামী লীগার। আপনি গুন্ডা পালেন মিয়া। আজকে বুধবার, আপনি কি বারে দেখা করবেন। এরপর সামনের বুধবার পর্যন্ত দেখবো, তারপর কি করতে হয় করবো। 

এর প্রতিউত্তরে অনুনয় বিনয় করে তিনি ফ্যাক্টরিতে আগুন না ধরাতে অনুরোধ করেন এবং ফ্যাক্টরি বন্ধ না করতে অনুরোধ করেন। ফ্যাক্টরি মালিক আজাদ হোসেন বলেন, বাজান তুমি আমার বাপ লাগো। আমি তোমার উপর নির্ভর করে আছি। তুমি বাবা একটু হেল্প করো। 
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আজাদ ডাইয়ের মালিক আজাদ হোসেন বলেন, গত ৫ আগস্টের পরে এখানে অনেক কিছু হয়েছে। যে যাকে যেভাবে পারছে অনেক কিছু করছে। এ বিষয়ে আর কিছু মন্তব্য করতে চাইনা। আমি তোমাকে অনুরোধ করলাম তুমি এই বিষয়ে কিছু কইরো না। 

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে চাইলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া বলেন, সে ৫ আগস্ট রাত থেকে নানা বিতর্কিত কাজ করছে। অনেককে ধরে নিয়ে চাঁদা আদায় করেছে। অনেকের কোম্পানির রড জোর করে নিয়ে গেছে। অনেকের ফ্যাক্টরি আগুন নিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি দলের সিনিয়রদের সম্মতিক্রমে তাকে বহিষ্কার করি। পরে ফতুল্লা থানার বিএনপির সভাপতি টিটু সংবাদ সম্মেলন করে তার বহিষ্কার আদেশ বাতিল করেন। 

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছে পুলিশ সুপার বরাবর। সেসব অভিযোগের কপি আমার কাছে আছে। রিয়াদ চৌধুরী ও টিটু মিলে মামলা বাণিজ্য করে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মীকে ফাসিয়েছেন ও হয়রানি করেছেন। তার এসব অপকর্মের বিষয়ে লিখিতভাবে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।  

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী ও ফতুল্লার মীর সোহেলের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। তাদের ক্যাডার বাহিনী রিয়াদ চৌধুরীর জন্য কাজ করছে। বিএনপির লোকজন তার কাছে ভিড়তে পারে না। 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, এ বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ব্যক্তির দায় দল নেবে না। কেউ কোন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল অনেক বড়। 

এর আগে,  বিএনপি নেতা রিয়াদ চৌধুরীর নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির প্যাডে দলীয় হাইকমাণ্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পরে ফতুল্লায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ সহ লোকজনদের জখম করেছে। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের আমলে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সেকেন্ড ইন কমান্ড সন্ত্রাসী শাহ নিজামের সাথে রিয়াদ চৌধুরীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। এসব সন্ত্রাসীদের দ্বারা তৎকালীন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রেখেছিল রিয়াদ চৌধুরী। গত ৫ আগস্টের পরে ফের তাণ্ডব চালাচ্ছে রিয়াদ ও তার লোকজন। তার বিচারের দাবি জানান বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। 

মতামত দিন

বিজ্ঞপ্তি
সবার আগে সব খবর পেতে ভিজিট করুন - voiceofnarayanganj.com I যে কোন সংবাদ বা বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - 01963958226 / 01819136738 অথবা মেইল করুন - voiceofnarayanganj24@gmail.com